Breaking News

কেউ বি’দ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাৎক্ষণিক ক’রণী’য়

বাংলাদেশে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা অহরহই ঘটছে। বিদ্যুৎ সরবারহে অব্যবস্থাপনা এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। কিন্তু কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তার আশপাশে যারা থাকেন – প্রায়শই তারা তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে জানেন না। অনেকেই ঘাবড়ে যান। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে প্রচুর। কিন্তু খুব সহজ কিছু বিষয় জানা থাকলে বহু মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অগ্নিকাণ্ড এবং দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক একেএম শাকিল নেওয়াজ বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এতে আক্রান্ত ব্যক্তি বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে আলাদা হয়ে যাবেন। কিন্তু সংযোগ বন্ধ করা সম্ভব না হলে, কোনভাবেই নিজে খালি হাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে স্পর্শ করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ দুই ধরনের, এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্ট। এসি কারেন্ট আকর্ষণ করে টেনে রাখে আর ডিসি কারেন্ট ধাক্কা মেরে ব্যক্তিকে ফেলে দেয়। এসি কারেন্ট বেশি বিপজ্জনক।’
শাকিল নেওয়াজ জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক সমস্যা কতটা গুরুতর হবে তা নির্ভর করে বিদ্যুতের ভোল্টেজের মাত্রা, কতক্ষণ বিদ্যুতের সাথে তার সংস্পর্শ ছিল, তার হার্ট অথবা অন্য কোন শারীরিক সমস্যা আছে কিনা- এসব কিছুর উপরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পায়ে জুতা বা স্যান্ডেল পরে, শুকনো কাঠের টুকরো, বাঁশ, রাবার দিয়ে তৈরি কোনকিছু দিয়ে, দূরত্ব বজায় রেখে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক উৎস থেকে আলাদা করতে হবে। তবে সেটি করতে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে জোরে আঘাত করা যাবে না।

কোনভাবেই ধাতব এবং ভেজা কিছু ব্যবহার করা যাবে না। এর কোন কিছুই করা সম্ভব না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিদ্যুৎ অফিসে খবর দেয়া উচিৎ। ভেজা যায়গায় ঘটনাটি ঘটলে নিজেকে বাঁচাতে সেখান থেকে সরে যাওয়াই ভাল।
ক্রিটিকাল কেয়ার এবং ইমারজেন্সি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রাগিব মনজুর বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সবচেয়ে বড় শারীরিক সমস্যা দুটো। একটি হলো পুড়ে যাওয়া এবং অন্যটি হল হৃদযন্ত্রের উপরে চাপ সৃষ্টি হওয়া। তিনি বলছেন, অনেক সময় ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তি মারাও যেতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন,‘ এছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে স্নায়ুর উপর চাপ তৈরি হয়, আক্রান্ত ব্যক্তি জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন। শরীরের যে অংশে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন সেই অংশ অথবা পুরো শরীর অবশ হয়ে যেতে পারে, ঝিমঝিম করতে পারে, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা হতে পারে।’

ডা. রাগিব মনজুর জানান, আপনার প্রিয়জন কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে মাথা ঠাণ্ডা রাখা জরুরী। তিনি সহজ কিছু প্রাথমিক চিকিৎসার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলছেন

যে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর পুড়ে গেলে, হার্টের সমস্যা হলে, অবস্থা গুরুতর হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতালে না নেয়া পর্যন্ত তাকে বালিশ ছাড়া মাটিতে একপাশে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে। শরীরের কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তির শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে মালিশ করে দেয়া যেতে পারে। জিহ্বা উল্টে গেছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে, উল্টে গেলে আঙুল দিয়ে তা সোজা করে দিতে হবে। নাক-মুখে কিছু আটকে থাকলে তা পরিষ্কার করে দিতে হবে, তা না হলে আক্রান্ত আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসরোধ হয়ে যেতে পারে।

শ্বাসকষ্ট হলে তাকে ‘সিপিআর’ দিতে হবে, যা বাংলাদেশে অনেকেই পারেন না। আক্রান্ত ব্যক্তির থুতনি ও চোয়াল ধরে মুখ কিছুটা হাঁ করে, সেখানে নিজের মুখ লাগিয়ে জোরে জোরে ফুঁ দিতে হবে। হৃদযন্ত্রের অবস্থানের উপর অনেক জোরে দুই হাত দিয়ে চাপ দিতে হবে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

About desk

Check Also

সন্তানকে বাঁচাতে কুমিরকে পি’ষে মা’র’ল হা’তি (ভিডিও)

হাতি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের প্রাণী। কিন্তু কেউ সন্তানকে আক্রমণ করলে হাতিও হয়ে উঠতে পারে ভয়ঙ্কর। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *