হুমকির মুখে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন

আজ ওই বাবার কবর টা দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু কাল দেখতে পাবোনা…! খুব হতাশের তাই না৷ আমার তো মনে হয়, যে গাছটা থেকে আমি একটু বেশীই উপকৃত হই, সেই গাছটার প্রতি একটা আলাদা ভালোবাসার টান অনূভুত হয়৷ কেটে ফেলার সময় প্রচুর খারাপ লাগে, কষ্ট লাগে। শৈশব থেকেই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রয়েছে আপনার কোটি কোটি পায়ের চারণা। সে জায়গাটা আগামীকাল থাকবে না।

নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাবে। দুর থেকে দাড়িয়ে দেখতে হচ্ছে, খণ্ড আকারে ভেংগে যাচ্ছে বাবার কবর টি, এবার রান্নাঘর, এখন আমার থাকার ঘরটি। অনুভব করুন তো নিজেকে সেই জায়গায় রেখে। খুব কষ্ট হবে। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থায়ী বাধ নির্মাণ করার জন্য গেলো বছর মানববন্ধন করা হলো। ১০০০ মানুষের গণস্বাক্ষর নেয়া হলো “বিদ্যানন্দ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন” হতে৷ মানুষের হাহাকারের কথা উচ্চমহল জেনেই যায় শুধু, কিন্তু তার প্রতিদান হিসেবে প্রাপ্তির খাতাটা শূন্যই থেকে যায়। অসহায় নদীর পাড়ের মানুষ গুলো কষ্টে নিশ্চুপ হয়ে যায়। তারা জানে এ কষ্ট কিছু মানুষের কাছে খুবই স্বাভাবিক। কেবল ওই চোখের প্রতিটা পানির ফোটা সৃষ্টিকর্তার কাছে আর্তনাদ। এই আর্তনাদ কেউ শোনেনি, কেবল “উনিই” শোনেন, আর কেউ নন…! এই হাহাকার, কষ্ট, ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন জেনেও কি আপনি সুপারি বাগান টা সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছিলেন…? কিংবা আপনার বাড়িটায় এইতো কদিন আগে কয়েকটা টিন, সিড়ি-কাঠ দিয়ে পোক্ত করে তুলেছিলেন কি আজ ভেঙে যাওয়ার জন্য…? কখনোই না। নদীভাঙ্গনে আজ যাদের বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, তারা আশায় ছিলো একটা স্থায়ী বাধ হবে। এই ভিটে-বসতবাড়ী তাদের হারাতে হবেনা। মায়ের কবর টি ভেঙে যেতে দিবেনা। কিন্তু আজ তারা অসহায়…!! নদীর প্রতিটা খন্ড ভাঙ্গনের সাথে ভেঙে যাচ্ছে তাদের স্বপ্ন,কলিজার একটা পাশ..! কভত বড় বিশ্বাসঘাতকতা করা হলো ওই নদীর পাড়ের অসহায় গরিব মানুষগুলোর প্রতি।

প্রতি ৫ বছর পর আমরা কাদের কে ভোট দেই, কাদের কে জনপ্রতিনিধি বানিয়ে দিচ্ছি…! তারা কি এই মানুষগুলোর হাহাকার শুনতে পাচ্ছে…! শুনে থাকলে সাড়া দেন, মুক্তি দিয়ে দেন এই গরিব অসহায় মানুষগুলোকে। এই প্রজন্মের কাছে একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ দিন। মানুষের ভালোবাসায়, প্রত্যেকের মনে গেথে থাকবেন।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিগ্রাম বাজার হইতে ১ কিমি পশ্চিমে কালিরহাট বাজার আজ হুমকির মুখে। ইতিমধ্যেই ২০ টি বাড়ি ভেঙে গেছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে কালীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় মসজিদ, এবং বাজারটি। অস্বাভাবিক ভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙ্গন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক মহোদয়, উক্ত উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, উক্ত ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জায়গাটি পরিদর্শন করে গিয়েছেন। স্থানীয় মানুষগুলো এই অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি চায় একটি স্থায়ী বাধ নির্মাণের মাধ্যমে৷ সে অপেক্ষায় আমরাও….

রিপন সরকার
মনঃশ্বর, বিদ্যানন্দ।

4 thoughts on “হুমকির মুখে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন

  1. খুব সুন্দর হইছে লেখা টা। ধন্যবাদ রিপন। অনেক অনেক শুভ কামনা তোমার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *