Breaking News

ত্বীন চাষ করে বিপাকে চাষী কবিরুস, কিনতে চায়না কেউ

কবিরুস সোবাহানের ২৭ বছরের কৃষি অভিজ্ঞতা হার মানলো ত্বীন চাষে। এ চাষ থেকে একটি টাকাও ঘরে তুলতে পারলেন না তিনি। চটকদার বিজ্ঞাপন আর পবিত্র আল কোরআনের রেফারেন্স দেখে ত্বীন ফলের চাষ করেছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামের কবিরুস সোবাহান।

সফল এ কৃষি উদ্দ্যোক্তার ত্বীন চাষে স্বপ্ন ভঙ্গ হল। ৭ কাঠা জমিতে চার শতাধিক গাছ রোপন করেন তিনি। প্রতিটি গাছের চারা ক্রয় করেন ৩৫০ টাকা দরে। জমি তৈরি, চারা রোপন ও পরিচর্যায় এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করেছেন। চার মাস পর স্বপ্নের ত্বীন গাছে ফল ধরতে শুরু করে।

নিদিষ্ট সময়ে পাকও ধরে ফলে। পাকা ফল তুলে বাজারজাত করতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। পরিচিত ফল ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্ত সাড়া মেলেনি। তাই গাছের পরিচর্যা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি একা নন এমন অবস্থা উপজেলার নেওয়াজ শরীফ রানা, মাহমুদ হাসান লিটনসহ অনেকের। তারাও স্বল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় চটকদার প্রচারণা দেখে ত্বীন চাষ করেছিলেন। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তাদের সে স্বপ্ন মাটির সাথে মিশে গেছে।

মাহমুদ হাসান লিটন জানান, এক বিঘা জমিতে ৪০০ চারা রোপন করেন। একটি চারা তিনি ৩২০ টাকা মূল্যে ক্রয় করেন। এ পর্যন্ত জমি তৈরি থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত ৩ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। তিন থেকে চার মাস পর ফল আসে এবং পাক ধরে। কিন্তু স্থানীয় বাজারে কেউ এই ফল কিনতে চাই না। ফলে এলাকায় বিক্রি করতে না পেরে ঢাকায় পাঠায় কিন্তু সেখানেও ফল বিক্রি হয়নি। একদিন পর তারা আমার পাঠানো ত্বীন ফেলে দিয়েছেন বলে জানায়। তাছাড়া এই ফল পাকলে গাছ থেকে সংগ্রহের পর বেশি সময় সংরক্ষণ করে রাখায় যায় না। একই কথা জানান ত্বীন চাষী রানা। তবে তাকে নিয়ে কৃষি ভাই নামক ইউটিউব চ্যানেলে প্রতিবেদন হওয়ার পরে কয়েক কেজি ফল তিনি বিক্রি করতে পেরেছেন বটে তবে ন্যায্য মূল্য তিনি পাচ্ছেন না বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

কোটাচাঁদটপুর উপজেলার কাগমারি গ্রামের ফলচাষি হারুনর রশিদ ওরফে মুসা জানান, ইউটিউবে আজম তালুকদার নামে এক ব্যক্তির চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হই। এরপর চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দিকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ টি চারা রোপন করি। এরমধ্যে মিশরীয়-১, মিশরীয়-২, কোর্তামনি ও গোল্ড জাতের চারা রয়েছে। চার মাস পর গাছে ফল এসেছে কিন্তু পাক ধরার পর ফলগুলো সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না, পচে যাচ্ছে। তাছাড়া আমাদের দেশে এই ফলের কোন ক্রেতা নেই। আবার কিছু কিছু ফলে পোকা হচ্ছে। তাই এই ত্বীন ফল আমাদের দেশের লাভজনক চাষ নয় বলেই আমি মনে করি। যে কারনে আমি ত্বীন ফল বানিজ্যিকভাবে ছাষ করছি না, অন্য চাষিদেরও চাষ না করার জন্য পরামর্শ দেন মি. মুসা।

জেলা কৃষি সাপ্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার বিজযয় কৃষ্ণ হালদার জানান, জেলায় এবার আটজন কৃষক ১.৮৭ হেক্টর জমিতে ত্বীন ফলের চাষ করেছেন। এরমধ্যে কালীগঞ্জে ০.৩৪ হেক্টর, কোটচাঁদপুর ১.০৪ হেক্টর এবং বাকি .৪৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার মাঠে। এই ফলটি দেখতে দেশীয় ডুমুরের মত তবে সাইজে একটু বড় এবং পিছন সাইড কিছুটা চ্যাপ্টা। তিনি আরো জানান যেহেতু এটা একটা নতুন ফল এটা কেমন হবে এ নিয়ে আমাদের কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনো করা হয়নি। কৃষকরা এ ফলের চাষ শুরু করেছেন। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব এ ফলটি আসলে কেমন। আর নতুন যেকোন ফল বাজারে কেমন চলবে এটাতো ক্রেতারাই বলতে পারবে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ত্বীন ফল বিক্রি করতে পারছেন না আমার জানা নেই। আমরা তাদের সাথে কথা বলে খোঁজ খবর নিয়ে দেখি কিছু করা যায় কি না।

About desk

Check Also

মর্মান্তিক ঘটনাঃ কলেজে ভর্তি হয়ে বাড়িতে ফেরা হলো না শিক্ষার্থীর

গোপালগঞ্জে কলেজে ভর্তি হয়ে আর বাড়িতে ফেরা হলো না শিক্ষার্থী আবু হামজার। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *