Breaking News

‘ওয়েট অ্যান্ড সি’অবস্থানে অভিভাবকরা

সরকারি নিয়ম মেনে স্কুলগুলো যেমন সব শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে আসতে বলেনি, তেমনি অভিভাবকরাও চাইছেন আরও কিছু দিন পরিস্থিতি দেখতে। স্কুলগুলো কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে, স্বাস্থ্যবিধি কতটুকু মেনে চলতে পারবে—সে বিষয় তো আছেই, একইসঙ্গে অনেকে ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে বলেও জানাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে প্রথম দিনে উপস্থিতি একেবারেই কম।

রাজধানীর ইস্কাটনের কয়েকটি স্কুল ঘুরে দেখো গেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারেই কম। স্কুলের প্রধান ফটকের মুখে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মূল ভবনের পাশেই। শ্রেণিকক্ষে ঢোকার আগে আবার তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বসানো হয়েছে শারীরিক দূরত্ব মেনে।

উচ্ছ্বসিত শিশুরা

রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত টুইট টিউটোরিয়াল স্কুল। এ স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে দেবলীনা দত্ত। দেড় বছর পর স্কুলে এসে দেবলীনা স্কুলের ছোট্ট একটু খোলা মাঠে চরকির মতো ঘুরলো। দুই হাত দুই পাশে ছড়িয়ে প্রজাপতির মতো ঘুরে ঘুরে বললো, খুব মজা লাগছে, খুব ভালো লাগছে।

ঘুরতে ঘুরতেই দেবলীনা ডেকে নিলো বন্ধু আজমাইনকে। স্কুলে এসে কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করতেই, ‘ভালো লাগছে, অনেক দিন পর স্কুলে’ বলে চিৎকার করে ওঠে আজমাইন।

আজমাইনের মা জানান, স্কুল খোলার ঘোষণার পর কিছুটা ডিস্টার্ব ছিল। অনেক দিন বাসায় থাকার কারণে আসতে চাচ্ছিলো না। তবে স্কুলে আসার পর সেটা বদলে গেছে। সকাল থেকেই ভীষণ উচ্ছ্বসিত।

এই স্কুলেই তৃতীয় এবং প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই মেয়েকে নিয়ে স্কুলে এসেছেন চিকিৎসক ফাতেমা বিনতে ইসলামে। ‘অনেক দিন পর স্কুলে নিয়ে এলাম। বাচ্চারা খুব খুশি ছিল।’ কিন্তু স্কুলে প্রথম দিনে উপস্থিতি খুবই কম জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম সবার সঙ্গে দেখা হবে, কিন্তু উপস্থিতি খুবই কম। একটু হতাশই হলাম। অনেকেই এখনও হয়তো ভয়টা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না।’

তিনি জানান, তার মেয়েই আজ প্রথম শ্রেণিতে একমাত্র উপস্থিত ছিল। ‘আজ বন্ধুরা কেউ আসেনি’, পাশ থেকে বলে ওঠে আশফা। ফাতেমা বলেন, ‘কাছেই বাসা হওয়ায় মাঝে মাঝেই স্কুলটা এসে দেখে যেতো’।

এই স্কুলে বেশ খানিকটা সময় কাটিয়ে দেখা যায়, ক্লাসের পর বাচ্চারা খেলায় মেতে উঠেছে। মায়েরা যেন বাসায় যেতে তাড়া না দেয় সেজন্য তারাই মাকে চেয়ার এগিয়ে দিচ্ছে, বসতে বলছে। মায়েরা বলছেন, বাচ্চারা স্কুল খুব মিস করেছে। গতকাল থেকে স্কুলে আসার আনন্দটা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে স্কুলে আসার আগে তারা নিজেরাও বাসায় সন্তানদের বাসায় হ্যান্ড স্যানিটাইজ ব্যবহার করা, স্কুলে মাস্ক না খোলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে চলতে হবে শিখিয়েছেন।

অভিভাবকদের ওয়েট অ্যান্ড সি

প্লে থেকে থ্রি পর্যন্ত চলা টুইট টিউটোরিয়াল স্কুলে চলতি বছরে মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে বলে জানান ভাইস প্রিন্সিপাল গোলেনূর বেগম। বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মানুষের হাতে পয়সা ছিল না, বাচ্চাকে ভর্তি করাবে কীভাবে।

অভিভাবকরা অনেক আগে থেকেই স্কুল খুলে দেওয়া অনুরোধ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাচ্চারা বাসায় থেকে থেকে সিক হয়ে যাচ্ছিল, মোবাইলে আসক্তি বেড়েছে। কিন্তু আমরা তো সরকারের নিয়মের বাইরে যেতে পারি না। স্কুল খুলেছে, এটা খুবই আনন্দের। তবে সংক্রমণ যেন না ছড়ায় সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। ক্লাসরুমসহ পুরো স্কুল ভবন, ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা হয়েছে। নোটিশ দেওয়া হয়েছে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরার জন্য, ক্লাস টিচাররা এ বিষয়ে লক্ষ রাখছেন।

স্কুল খোলার প্রথম দিনে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক অভিভাবকই পরিস্থিতি দেখতে চাচ্ছেন। যেহেতু অনলাইনে ক্লাস চলছে, অনেকেই দেশের বাড়িতে চলে গেছেন। এখনও ফেরেনি, এখন হয়তো ফিরবেন। পরিস্থিতিও দেখতে চাইছেন অনেক অভিভাবক, বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যবিধি মানার সর্বোচ্চ চেষ্টা স্কুলগুলোর

ইস্কাটন এলাকাতেই আরেক স্কুল ইউনিভার্সেল টিউটোরিয়াল। স্কুল খোলার আনন্দে স্কুল ভবন সাজানো হয়েছে রঙিন বেলুন দিয়ে।

হলুদ আর্ট পেপারের ওপরে রঙিন করে ‘ওয়েলকাম ব্যাক টু স্কুল’ লিখে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুলের মূল ভবনে ওঠার সিঁড়ির পাশে হাত ধোয়ার জন্য নতুন বেসিন বসানো হয়েছে, মূল ফটকের পাশেই রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ইনফ্রারেড থার্মোমিটার। এমনকি এই স্কুলে জুতা যেন পরিষ্কার থাকে সে জন্য পাটের ব্যাগ বিছিয়ে তাতে ব্লিচিং পাউডার ভিজিয়ে রাখা হয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনও রিস্ক নিতে চান না তারা। শিশুদের এ আনন্দকে আমরা সম্মান করে ওদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্কুলের সিনিয়র টিচার মুঈনুদ্দীন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্কুল খোলার প্রথম দিনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। সেই সঙ্গে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুলে সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট করা হয়েছে।

গত কয়েক দিনে পুরো স্কুল কয়েকবার পরিষ্কার করা হয়েছে, প্রস্তুতি নেওয়া ছিল। সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাপমাত্রা কত থাকলে স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হবে—সেটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিভাবকদের।

এই স্কুলের হেড অব অ্যাকাডেমিক ডিপার্টমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট তাবিতা জহুর ইকবাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে ক্লাসরুমগুলো আকারে ছোট সেসব রুমের তালাই খোলা হয়নি, সেসব রুমে কোনও ক্লাস হচ্ছে না। কারণ, ওখানে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা যাবে না।

এই স্কুলে শিক্ষার্থীদের ঢোকার আগে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে তাবিতা জহুর ইকবাল বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সবার তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। টিফিন সময়ে ক্লাস টিচারের সামনে বসে তারা টিফিন করেছে। সেই সঙ্গে কোনও শিক্ষার্থী কোনও বন্ধুকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না, পানির বোতল কেউ কারও সঙ্গে শেয়ার করবে না। সবার প্রতিটি জিনিস আলাদা। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য।

About desk

Check Also

এই মাত্র পাওয়াঃ প্রাথমিকের শূন্য পদে নিয়োগ শিগগিরই

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শিগগিরই সম্পন্ন করা হবে। রোববার (১৯ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *