Breaking News

বিএনপির বৈঠকে আন্দোলন জোরদারের পক্ষে মত

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নির্বাহী কমিটির সভায় তারা এ মত দেন।
বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে রাত ৯টায় শেষ হয় বিএনপির রুদ্ধদ্বার বৈঠক।

সূত্র জানায়, বৈঠকে পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, নাসির উদ্দিন আহমদ, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ।

বৈঠক পরিচালনা করেন বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

বৈঠক সূত্র জানায়, ‘বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে নেতারা বলেছেন, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তারপর থেকে দেশে যত নির্বাচন হয়েছে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। বিগত দিনে প্রমাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে না।’

এর আগে বিকেল ৪টায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় যোগ দিয়েছেন তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের তিন দিনব্যাপী বৈঠকের প্রথম দিন ছিল। আমরা রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছি।’

এদিকে দীর্ঘদিন পর নির্বাহী কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে ওঠে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়। বৈঠককে কেন্দ্র করে কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরিপাটি করে সাজানো গোছানো হয় পুরো কার্যালয়। ভবনের নিচতলার হলরুমে নেতাদের সাদা কাপড়ে মোড়ানো আসন দেওয়া হয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানো মঞ্চের সারিতে বসেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। স্ক্রিনে অনলাইনে যুক্ত হন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বৈঠক ৪টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ২টা থেকেই বৈঠকে অংশ নিতে একে-একে উপস্থিত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও ভাইস চেয়ারম্যানরা। করোনার কারণে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বৈঠকে এসে নেতারা একে-অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিএনপির নির্বাহী কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের আশেপাশে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সাদা পোশাকে কার্যালয়ের আশেপাশে অবস্থান নেন বিভিন্ন গোয়েন্দাবাহিনীর সদস্যরা।

এ বৈঠকের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

উপস্থিতির যে তালিকা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে তাতে রয়েছেন, ভাইস চেয়ারম্যানদের শাহজাহান ওমর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান, মীর নাসির উদ্দিন, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ প্রমূখ। উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুল হক চৌধুরী, মশিউর রহমান, আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, হাবিবুর রহমান হাবিব, লুতফর রহমান খান আজাদ, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, ফজলুর রহমান, শাহজাহান মিয়া, সুকোমল বড়ুয়া, খন্দকার মুক্তাদির আহমেদ, এসএম ফজলুল হক, আবদুল হাই, ভিপি জয়নাল আবেদীন, গোলাম আকবর খন্দকার, অধ্যাপক শাহেদা রফিক, আফরোজা খানম রীতা, তাহসিনা রুশদীর লুনা, অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, ইসমাইল জবিল্লাহ, এরামুজ্জামান, তৈমুর আলম খন্দকার, মইনুল ইসলাম শান্ত, মাহবুবুর রহমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, আবদুল হাই শিকদার, আতাউর রহমান ঢালী, বোরহান উদ্দিন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, নজমূল হক নান্নু প্রমূখ।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের মধ্যে রয়েছেন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন ও বেলাল আহমেদ ও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এবিএম আবদুস সাত্তার ও রিয়াজ উদ্দিন নসু উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত হয় ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে ৩৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলে সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ৭৪ জন।

বুধবার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সহ সম্পাদকরা থাকবেন। বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বসবেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার আগে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক হযেছিলো। তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রথম সিরিজ বৈঠক।

About desk

Check Also

আজ থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক শুরু

করোনাভাইরাস কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের শুরুতেই পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে জাতীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *